ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার চীনের ব্যাপক আকারে চীনের বিনিয়োগ আসবে, আশা প্রেস সচিবের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় বেইজিংয়ের কাছে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চায় ঢাকা ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ডাকাতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ নিরাপত্তা দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সুনামগঞ্জে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ আহত ৬ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংস্কারের কথা বলেও পরে কথা রাখেনি- নাহিদ ঈদে ফিরতি যাত্রায় ৮ এপ্রিলের টিকিট মিলবে আজ মিয়ানমারে দু’দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশও পানি সঙ্কটে উত্তরাঞ্চলের কৃষি বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরে সহায়তা করবে চীনা এক্সিম ব্যাংক ভারত থেকে কেনা হবে আরও ৫০ হাজার টন চাল ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে তিন স্তরের নিরাপত্তা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হলেও অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসবে না-অর্থ উপদেষ্টা মিয়ানমারে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ রাজধানীতে তীব্র যানজট
জানালায় দাঁড়াতেই গুলি এসে কেড়ে নিল শিশুটিকে

বাসার ছাদে বাবার কোলে ঢলে পড়ে রিয়া গোপবাসার ছাদে বাবার কোলে ঢলে পড়ে রিয়া গোপ

  • আপলোড সময় : ২৬-০৭-২০২৪ ০২:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৭-২০২৪ ০২:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন
বাসার ছাদে বাবার কোলে ঢলে পড়ে রিয়া গোপবাসার ছাদে বাবার কোলে ঢলে পড়ে রিয়া গোপ
*             কারও পেটে, কারও পিঠে, কারও পায়ে গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে
*             আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও রিকশাচালক, দিনমজুর, চাকরিজীবী রয়েছেন


গত শুক্রবার দুপুরে খাওয়ার পর ছাদে খেলতে গিয়েছিল পরিবারের সবার আদরের মেয়ে রিয়া গোপখানিক পরেই রাস্তায় সংঘর্ষ বাধেবাসার সামনে হইহুল্লা শুনে বাবা ছুটে যান ছাদ থেকে মেয়েকে ঘরে আনতেমেয়েকে কোলে নিতেই একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয় মাথায়মুহূর্তেই ছোট্ট দেহটি ঢলে পড়ে বাবার কোলেএদিন রিয়া গোপের মতো কারও পেটে গুলি, কারও পিঠে গুলি, কারও পায়ে গুলি- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ২০ জনের মতো আহতের প্রায় সবাই গুলিবিদ্ধকারও লেগেছে একটি গুলি, কারও লেগেছে দুটি গুলিঅনেক ছররা গুলির ক্ষত নিয়েও ভর্তি কেউ কেউ
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়ামাটি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকতো সাড়ে ছয় বছর বয়সী মেয়েটির নাম রিয়া গোপসেদিন বাড়ির ছাদে গুলিবিদ্ধ রক্তে ভেজা মেয়েকে নিয়ে তখনই বাবা ছোটেন হাসপাতালেবাসার কাছের ক্লিনিকে চিকিৎসকেরা বেশিক্ষণ রাখলেন নাপাঠিয়ে দিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেসে রাতেই মাথায় অস্ত্রোপচার হয়সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন চিকিৎসকেরামেয়েটিকে রাখা হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)বলা হয়, ৭২ ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাবে নাগত শুক্রবার বিকেলে গুলি লাগে মেয়েটিরসেদিন রাতে অস্ত্রোপচারের পর শনিবার পার হয়রোববার ও সোমবার আইসিইউতে একটু একটু করে আঙুল নাড়ছিল মেয়েটিস্বজনদের বুকে আশার সঞ্চার হয়েছিলকিন্তু বুধবার সকালের দিকে মেয়েটির সে নড়াচড়াও থেমে যায়সবাইকে কাঁদিয়ে মেয়েটি চলে যায় না-ফেরার দেশেসাড়ে ছয় বছর বয়সী মেয়েটির নাম রিয়া গোপমা-বাবার সঙ্গে থাকতো নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়ামাটি এলাকায়চারতলা বাড়ির ওপরের তলায় থাকত ওরাকোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের রেশ নারায়ণগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছিলশুক্রবার বিকাল ৩টায় নয়ামাটি এলাকায় চলছিল সংঘাত, আর গোলাগুলিসেই গুলিতেই প্রাণ গেল ছোট্ট রিয়ারঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিয়ার মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হয়, ‘গানশট ইনজুরিদীপক কুমার গোপ ও বিউটি ঘোষ দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল রিয়াস্থানীয় একটি রড-সিমেন্টের দোকানে ব্যবস্থাপকের কাজ করেন দীপকবিয়ের পাঁচ বছর পর এ দম্পতির ঘর আলো করে আসে রিয়াএ বছরই ভর্তি হয়েছিল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েবুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন দীপক কুমারসঙ্গে ছিলেন আরও স্বজনেরাকথা হয় রিয়ার এক স্বজনের সঙ্গেতিনি বললেন, বাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বাবার কোলেই গুলিবিদ্ধ হয় মেয়েটাএরচেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে! বুধবার রিয়ার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার কিছু পরেমর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগে স্ট্রেচারে রাখা মেয়েটির মুখ দেখানো হয় স্বজনদেরমুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরারিয়ার ছোট খালা আহাজারি করতে করতে বলেন, আমার ছোট মা-রে, তুই আমাদের ছেড়ে চলে গেলি! তোরে ছাড়া আমরা কেমনে বাঁচব? একমাত্র মেয়েকে হারানোর শোকে যেন পাথর হয়ে গেছেন দীপক কুমারমর্গের সামনে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে বলছিলেন, কোথা থেকে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝি নাইআমার কোলেই মেয়ের মাথা থেকে রক্ত বেয়ে পড়ছিলবলেই হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন
জানালায় দাঁড়াতেই গুলি এসে কেড়ে নিল শিশুটিকে: জানালার পাশেই সামিরের পড়ার টেবিলপড়ার বই, প্লাস্টিকের খেলনা, ঘরের মেঝেতে এখনো ছোপ ছোপ রক্তের দাগগত শুক্রবার জানালা দিয়ে আসা একটি বুলেট সামিরের চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার খুলি ভেদ করে বেরিয়ে যায়ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ১১ বছরের সাফকাত সামিরওই দিন (১৯ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে মিরপুরে কাফরুল থানার সামনের সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়এ সময় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়া ঢুকছিল সামিরের ঘরেজানালা বন্ধ করতে গেলে বাইরে থেকে গুলি এসে বিদ্ধ করে শিশুটিকেগুলিটি তার চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়ঘরে ছিল তার চাচা মশিউর রহমান (১৭)তার কাঁধেও গুলি লাগেমঙ্গলবার সামিরদের বাসায় গিয়ে নির্মম মৃত্যুর চিহ্ন দেখা যায়নানাবাড়ি আশুলিয়ায় একমাত্র সন্তানকে দাফন করে মা ফারিয়া ইবনাত (২৮) সেখানেই রয়ে গেছেনবাবা সাকিবুর রহমান (৩৪) মিরপুরের ছোট্ট বাসাটিতে ফিরে এসে সন্তানের স্মৃতি হাতড়াচ্ছেনতিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোট চাকরি করেনশিশু সামির একটি মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তসাকিবুর রহমানের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তার চোখের পানি থামছিলই নাতিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে তিনি পাশেই বকুলতলা মাঠের কাছে ছিলেনহেলিকপ্টার থেকে সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি হচ্ছিল দেখে বাসার দিকে রওনা দেন তিনিএমন সময় এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে বাসায় গুলি ও রক্তের সংবাদ পানদ্রুত বাসায় এসে দেখেন, তাঁর একমাত্র সন্তান রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে আছেতাকে কোলে নিয়ে ছুটে যান পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিকেচিকিৎসক বলেন, শিশুটি আর বেঁচে নেইসন্তানের লাশ হাসপাতালে থাকা অবস্থায় এলাকার মুরব্বি ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন হাজির হনতিনি সাকিবুর রহমানকে নিয়ে যান কাফরুল থানায়তিনি বোঝাতে থাকেন, সন্তানের লাশ দ্রুত দাফন করা বাবা হিসেবে তার দায়িত্বআইনি জটিলতায় না গিয়ে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন তিনিসহ স্থানীয় মুরব্বিরাবাবা সাকিবুর মুরব্বিদের কথা মেনে আর মামলায় যাননিইসমাইল হোসেনের কাছে ওই রাতের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই সময় আমাদের কাছে দুটি বিকল্প ছিলতৎক্ষণাৎ লাশ দাফন না করে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য জটিলতার মধ্যে যাওয়াঅথবা এলাকাবাসী লাশ নিয়ে মিছিল করে প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল, সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানানোতাই পুলিশের কথা শুনে আমরা মামলা করব না, অভিযোগ নেইএমন চিঠিতে সই করতে সাকিবুরকে বোঝাইরাতে এলাকার একদল তরুণ এসে হাসপাতালের বাইরে হাজির হনতারা লাশ নিয়ে মিছিল করতে চানমৃত্যুর বিচার চেয়ে প্রশাসনের কাছে যেতে চান এলাকাবাসীএ পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে বাবা সাকিবুরের চোখেমুখে সেই সময়ের ছায়া প্রবল হতে থাকেকাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলতে থাকেন, ‘থানার লোকজন আমাকে একটি লিখিত ফরম সামনে তুলে ধরেনতারা বলেন এখানে স্বাক্ষর করেন; নয়তো তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ, প্রমাণ হাজির করাসহ অনেক ঝামেলায় পড়তে হবেলাশ নিয়ে রাজনীতি হবেসেখানে কী লেখা ছিল জানতে চাইলে সাকিবুর বলেন, এ ঘটনায় আমার কোনো অভিযোগ নেইআমি মামলা করতে চাই নাআমি আমার ছেলের লাশ নিয়ে দাফন করতে চলে যাবএসব কথা লেখা একটি টাইপ করা ফরম আমার সামনে দিলে আমি শুধু কয়েকটি বিষয় ভেবেছি, আমি সন্তানকে হারিয়েছি, সে অনেক কষ্ট করে মারা গেছেএখন যদি সময়মতো কবরও দিতে না পারি, তাহলে এর চেয়ে কষ্ট আর নেইএসব কথা ভাবতে ভাবতে কাগজে স্বাক্ষর করিসাকিবুর বলেন, আমরা সরকারবিরোধী কোনো কাজ করিনিপ্রশাসনের নিয়ম মেনেছিকারফিউ জারি করার পর আমরা পরিবারের সবাইকে ঘরের মধ্যে রেখেছিসেই ঘরের মধ্যেও আমরা যদি নিরাপদে থাকতে না পারি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমি আওয়ামী লীগ করি, পরিবার ও এলাকার বেশির ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগ সমর্থন করেগত নির্বাচনে আমরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিএখানে বড় ধরনের গন্ডগোল করার মতো কেউ নেইআমাদের কেন এমন হবে! আমাদের বাসায় কেন গুলি করবে! এটা কোন নিয়মএসব কথা বলতে বলতে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন সাকিবুর
পেটে গুলি, বুকে গুলি, পায়ে গুলি, কাতরাচ্ছেন তারা: কারও পেটে গুলি, কারও পিঠে গুলি, কারও পায়ে গুলিশহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ২০ জনের মতো আহতের প্রায় সবাই গুলিবিদ্ধকারও লেগেছে একটি গুলি, কারও লেগেছে দুটি গুলিঅনেকগুলো ছররা গুলির ক্ষত নিয়েও ভর্তি কেউ কেউহাসপাতালটিতে গত মঙ্গলবার গিয়ে আহতদের মধ্যে দেখা গেল একটি কিশোরকেতার দুই পায়ে দুটি গুলি লেগেছেপা দুটো ব্যান্ডেজ করাপাশে বসা তার মামাগিয়ে কথা বলতে চাইলে মামা সবকিছুই বললেনতবে অনুরোধ জানালেন, তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় যেন প্রকাশ করা না হয়আহত ব্যক্তির মামার দাবি, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুরে সংঘর্ষের সময় বাসায় ফিরতে গিয়ে ১৯ জুলাই (শুক্রবার) গুলিবিদ্ধ হয় তার ভাগনেঘটনাস্থল মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনআহত কিশোরটি স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীআহতের মামা আরও বলেন, তার ভাগনের দুই পায়ে যে দুটি গুলি লেগেছে, তা রাবার বুলেট বা ছররা গুলি নয়তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীটির ততটা ঝুঁকি নেইতবে কারও কারও পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছেতাদের একজন জাকির শিকদারতিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) ক্যাজুয়ালটি-২ বিভাগে ভর্তিবয়স ২৭ বছরসংঘর্ষের মধ্যে ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঢাকার মধ্যবাড্ডা এলাকায় তার বাঁ পায়ে গুলি লাগেপাটি ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকেরাজাকির নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী বলে উল্লেখ করেনগতকাল তিনি বলেন, শরীরের ব্যথা তো কিছু না ভাইআমি তো পঙ্গু হয়ে গেলাম! পরিবারের বোঝা হয়ে গেলামতিনি দাবি করেন, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তার পায়ে গুলি লাগেবৃহস্পতিবার পঙ্গু হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি-২ বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গুলিবিদ্ধ ৩৫ জন ভর্তিএর মধ্যে সাতজনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়তাদের সবার শরীরে লেগেছিল একটি করে গুলিজাকিরের বাড়ি মাদারীপুর সদরেতার বাবা শাহজাহান শিকদার ২০০৭ সালে মারা যানচার ভাই, এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়ছোট ভাই ও মাকে নিয়ে তিনি মধ্যবাড্ডায় ভাড়া থাকেনপঙ্গু হাসপাতালে যখন তার সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন তাঁর মা হনুফা বেগম পাশে বসে চোখ মুছছিলেনতিনি শুধু বলছিলেন, আমার ছেলে (জাকির) সবাইকে দেখে রেখেছিল, এখন আমার ছেলেকে কে দেখবে? সরেজমিনে গত মঙ্গলবার পঙ্গু হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি-২ বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গুলিবিদ্ধ ৩৫ জন ভর্তিএর মধ্যে সাতজনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়তাঁদের সবার শরীরে লেগেছিল একটি করে গুলিআহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন শিক্ষার্থী৩৫ জনের মধ্যে ছিল ৫টি শিশু ও কিশোর১৯ জুলাই বাড্ডা থেকে আসা মুহিব্বুল্লাহ (৩৮) নামের একজনের ছিল বুকের এক পাশে গুলির আঘাততিনি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক বনানী শাখায় নামাজ পড়াননীরবের ভাষ্য, ঘটনার দিন তিনি রিকশা চালাচ্ছিলেনহঠাৎ করেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়তিনি রিকশা নিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যানতখন পুলিশের ছোড়া গুলি তার শরীরের বিভিন্ন অংশে লাগেআহতদের একজন মো. সিফাত (১৪)সে মিরপুরের পল্লবী মাজেদুল ইসলাম মডেল হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীসে জানায়, ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় তার ডান পায়ে গুলি লাগেসিফাতের বাবা মো. সিরাজ একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মীতিনি বলেন, দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি পল্লবীতে থাকেনঘটনার দিন তাঁর ছেলে সিফাত এক বন্ধুর সঙ্গে মিরপুর-১০ নম্বরে গিয়েছিলবাসায় ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় তার পায়ে গুলি লাগেপঙ্গু হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি-২ বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, সেখানে ভর্তি রোগীরা সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেনতাদের আনা হয়েছে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, বাড্ডা, নারায়ণগঞ্জ প্রভৃতি এলাকা থেকেআহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও রিকশাচালক, দিনমজুর, চাকরিজীবী, গাড়িচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেনএকজন শিক্ষকও রয়েছেন
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ